নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ আড়াই বছর পর জানা গেলো নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম হত্যাকান্ডের মুল কারণ। বিকাশ লেনদেনের টাকা ফেরৎ না দেয়াকে কেন্দ্র করে খুন করা হয় এই ব্যবসায়ীকে। এঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে ৬ জনকে আটক করেছে পিবিআই।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই জানায়, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম হত্যা মামলার প্রায় আড়াই বছর পর ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই। এ ঘটনায় জড়িত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজন আদালতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
রোববার (১৭ মে) পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন— আলীগঞ্জ এলাকার মহিবুল্লাহর ছেলে শান্ত হোসেন (২৭), শাহিনের ছেলে আহাদ আলী (২৩), আয়াত আলীর ছেলে রুবেল (৩২), রতন মিয়ার ছেলে আশিক (২৩), সালাউদ্দিনের ছেলে জুম্মন (২৩) এবং কামরুর হাসানের ছেলে জাহিদ হাসান শুভ (২৫)।
পিবিআই জানায়, ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর ফতুল্লা থানাধীন কুতুবপুরের আলীগঞ্জ রেললাইন সংলগ্ন হাজী সাহাবুদ্দিনের মাছের খামারের পুকুর থেকে বিকাশ ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ফতুল্লা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশনায় মামলাটির তদন্তভার পিবিআইয়ের ওপর ন্যস্ত হয়।
তদন্তে জানা যায়, নিহত আতিকুল ইসলাম আলীগঞ্জ কাজীপাড়া বাজারে বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোডের ব্যবসা করতেন। একই এলাকায় ব্যবসা করা আলী সম্রাট নামের এক ব্যক্তি ঘটনার দিন সকালে আতিকুলের কাছ থেকে বিকাশে ৫০ হাজার টাকা ধার নেন। রাতে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে তিনি আতিকুলকে আলীগঞ্জ রেললাইন এলাকায় ডেকে নেন।
পরে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত আসামিরাসহ আরও কয়েকজন আতিকুলের কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পেট, বুক ও ঘাড়ে আঘাত করে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে দেয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই আরও জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৩ মে ভোরে মূল আসামি শান্ত হোসেনকে আলীগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১৪ মে রাতভর অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত শান্ত হোসেন এবং আহাদ আলী আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


