তপু সারোয়ার: মানুষের জীবনে বিপদ-আপদ অবশ্যম্ভাবী। কখনও অসুস্থতা, কখনও আর্থিক সংকট, কখনও প্রিয়জন হারানোর বেদনা কিংবা জীবনের নানা প্রতিকূলতা আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়। অনেকেই তখন প্রশ্ন করেন—“আমি কেন এই কষ্টে পড়লাম?” অথচ ইসলাম আমাদের শেখায়, সব বিপদ শাস্তি নয়; বরং অনেক বিপদই আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দার ঈমান, ধৈর্য ও তাকওয়া যাচাইয়ের পরীক্ষা।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন, “আর অবশ্যই আমি তোমাদের কিছুটা ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে পরীক্ষা করব। আর আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।” (সূরা আল-বাকারা, ২:১৫৫)
এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দুনিয়ার জীবন পরীক্ষার ক্ষেত্র। এখানে কষ্ট আসবে, কিন্তু সেই কষ্টের মধ্যেও যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে, ধৈর্য ধারণ করে এবং তাঁর বিধান মেনে চলে, সে-ই প্রকৃত সফল।
আল্লাহ আরও বলেন, “নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি। নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি।” (সূরা আশ-শারহ, ৯৪:৫–৬)
অর্থাৎ, কোনো দুঃখই চিরস্থায়ী নয়। প্রতিটি অন্ধকারের পর যেমন আলো আসে, তেমনি প্রতিটি পরীক্ষার পর আল্লাহ তাঁর বান্দার জন্য কল্যাণের দ্বার খুলে দেন।
মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মুমিনের বিষয়টি কতই না আশ্চর্য! তার প্রতিটি অবস্থাই তার জন্য কল্যাণকর। সুখ পেলে সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে, আর দুঃখে পড়লে ধৈর্য ধারণ করে—উভয় অবস্থাই তার জন্য কল্যাণকর।” (Sahih Muslim)
আরেকটি হাদিসে তিনি বলেছেন, “যাকে আল্লাহ ভালোবাসেন, তাকে তিনি পরীক্ষায় ফেলেন।” (Sahih al-Bukhari)
তাই বিপদে পড়ে হতাশ হওয়া নয়; বরং আত্মসমালোচনা করা, তওবা করা, বেশি বেশি দোয়া, ইস্তিগফার ও নামাজে মনোযোগী হওয়া একজন মুমিনের কর্তব্য। কারণ, বিপদ অনেক সময় গুনাহ মাফের কারণ হয় এবং মানুষের মর্যাদা আল্লাহর কাছে আরও বৃদ্ধি করে।
আজকের ব্যস্ত ও ভোগবাদী সমাজে আমরা অনেক সময় বিপদকে শুধু দুর্ভাগ্য বলে মনে করি। অথচ একজন ঈমানদার জানেন, আল্লাহর প্রতিটি ফয়সালার মধ্যেই কল্যাণ নিহিত রয়েছে। তাই বিপদের সময় অভিযোগ নয়, বরং বলা উচিত—“হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল”—আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনিই সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক।
আসুন, জীবনের প্রতিটি পরীক্ষা ধৈর্য, ঈমান ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থার সঙ্গে মোকাবিলা করি। কারণ, দুনিয়ার পরীক্ষায় যারা সফল হবে, আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহর অফুরন্ত রহমত, ক্ষমা এবং চিরস্থায়ী জান্নাতের সুসংবাদ।


